মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

দর্শনীয় স্থান

কিভাবে যাওয়া যায়: 
ঢাকা হতে বাস যোগে শ্যামনগর উপজেলা হয়ে মুন্সিগঞ্জ বাস ষ্ট্যান্ড অথবা বুড়িগোয়ালিনির নীললডুমুর হতে ফরেষ্ট অফিস হতে পাস গ্রহন করে নৌকা অথবা ট্রলার যোগে সুন্দববনে গমন।

বিশ্বের বিখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট সুন্দরবন বাংলাদেশের গর্ব আর গৌরব যা বাংলাদেশের দক্ষিন জনপদকে সমৃদ্ধ করেছে। পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ ভূমি ও ম্যানগ্রোভ অরন্য সুন্দরবন বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এবং পরিবেশ রক্ষার পরম সহায়ক। বাংলাদেশের বৃহত্তম বনভূমি যা সাতক্ষীরা খুলনা এবং বাগেরহাট এই তিনটি জেলার দক্ষিণ অববাহিকায় পরিবেষ্টিত। এর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলাংশে বিদ্যমান অংশটি শ্যামনগর উপজেলারই অংশ বিশেষ।

 

অবস্থানঃ

 

সুন্দরবন বাংলাদেশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে ৮৯ হতে ৯০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ও ২১-৩০ হতে ২২- ৩১ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত।

 

আয়তনঃ

 

সুন্দরবনের মোট আয়তন ২২২৭.৯৬ বর্গমাইল বা ৩৫৬৫ বর্গ কিঃমিঃ বা ১৪২৫৮৯৫.৫ একর। যার মধ্যে সাতক্ষীরা তথা শ্যামনগর অংশে বনভূমির পরিমান ৪৫১১৮০ একর। শ্যামনগর তথা সাতক্ষীরার ফরেষ্ট রেঞ্জ সাতক্ষীরা যার সদরদপ্তর বুড়িগোয়ালিনী। সাতক্ষীরার রেঞ্জের স্টেশন অফিস ৪টি টহল ফাঁড়ি ০৭টি গোলপাতা কুপ-০১টি, গরান কুপ-০১টি। (এক নজরে সুন্দরবন-মোঃ নুরুজ্জামান উপবন সংরক্ষন)।

 

নামকরনঃ

 

সুন্দরবনের নামের উৎপত্তি সম্পর্কে বহুমত আছে। এই বনে সুন্দরী নামক বৃক্ষ বহু পরিমানে দেখা যায়। এই সুন্দরী বৃক্ষের নাম থেকে সুন্দরবন। নামের উৎপত্তি সম্বন্ধে এটাই সাধারন মত কেহ বলেন এরূপ নামকরন হওয়া উচিৎ নহে এই বনে    অনেক স্থলে সুন্দরী গাছ নাই অথচ সর্বত্রই ইহাকে সুন্দরবন বলে। তাহাদের মতে সম্ভবত ইহা সমুদ্রবন শব্দের অপভ্রংশ। বাখরগঞ্জের ইতিহাস লেখক মহাপন্ডিত বিভারিজ সাহেব অনুমান করেন যে ‘বাখরগঞ্জের সুদ্ধা নদী হইতে সুন্দরবন নামের উৎপত্তি। বাখরগঞ্জের সুগন্ধা নামে একটি প্রবল নদী ছিল। বাখরগঞ্জের সভ্যতা ও প্রতিভা এই সুন্দার কুলেই প্রথম বিভাসিত হইয়াছিল। এই কূলবর্তী বনভাগ সুন্দারবন বা সুন্দরবনে পরিনত হইয়াছে। কিন্তু এরূপ ধরিলে অন্যান্য জেলার বনভাগ যে সুন্দরবন বলিয়া কীর্তিত হইবে ইহা সম্ভবপর নহে। পৃ-৩০ ১ম খন্ড যশোর-খুলনার ইতিহাস-সতীশ চন্দ্র মিত্র। তবে সব মিলে বলা যায় সুন্দরী গাছ থেকে সুন্দরবনের নাম হওয়া সম্ভব।

 

সুন্দরবনের গাছঃ

 

সমগ্র সুন্দরবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাতক্ষীরা রেঞ্জের যার সম্পূর্ণ অংশই শ্যামনগর উপজেলার অর্ন্তভূক্ত। সমগ্র সুন্দরবনের সকল বৈশিষ্ট্যই এই অংশে বিদ্যমান। সুন্দরবনে প্রবেশ করলে বৃক্ষরাজির সৌন্দর্যে আপনি মোহিত হবেন কিন্তু গভীর উলল্লাসে লাফাতে পারবেন না। কারন গাছের গোড়ায় প্রচুর পরিমান শুলো (blind roof suckers) উর্দ্ধ মুখে খোঁটার মত বসে আছে। যাকে শ্বাসমূল বলা হয়। এটাই এ বনের বৈশিষ্ট্য যেটা ম্যানগ্রোভ পরিচয়ে পরিচিত করে। এ বনের প্রায় সব গাছের গোড়া দিয়ে শুলো উঠতে দেখা যায়।

যে সব গাছ সুন্দরবনকে স্বার্থক করে তুলেছে একমাত্র চোখে দেখা ছাড়া এই লেখনি চিত্র দিয়ে তাদের বর্ণনা অসম্ভব। তবু পর্যটকদের মনোযোগ পাবার জন্যে যদি উল্লে­খ করতে হয় তাহলে গাছগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ এরকম-।

 

সুন্দরী বা সুন্দর গাছ- নামের সার্থকতা বহন করছে যে গাছ সেই সুন্দর গাছ। বর্ণ ধূসর এবং মসৃন, পাতাগুলি ছোট, লবঙ্গের পাতার ন্যায় ছোটছোট হলুদ ফুল হয়। এর কাঠ লালবর্ণের। বর্ণ ও বৃক্ষ গবেষকদের মতে শুধু নোনাজলে সুন্দরী গাছ ভাল হয় না। নোনা ও মিষ্টি জলের মিশ্রিত পলিতে এই গাছ ভাল জন্মে। বর্তমানে যমুনা, ইছামতি, কপোতাক্ষ, প্রভৃতি নদীর প্রবাহ রুদ্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত লবনাক্ততার কারনে সুন্দরী গাছ দুর্লভ হয়ে উঠেছে। 

 

পশুর- গৃহ নির্মান ও আসবাবপত্রের জন্য পশুর কাঠ যেমন শক্ত, মজবুত, রঙবাহারী তেমনি স্থায়ী। বিশেষ করে ঘরের খুঁটি হিসাবে চমৎকার। সুন্দরবনের বড় গাছের মধ্যে এটি একটি।

 

বাইন- তবে সবচেয়ে বড় যে গাছ দর্শনার্থীদের মনে আকর্ষন জাগায় সেটা বাইন গাছ। অপেক্ষাকৃত কম মসৃন সৌখিন আসবাবপত্রে উপযোগী নয় তবে গৃহনির্মাণের ফ্রেম, তক্তা প্রভৃতিতে উপযোগী এবং স্থায়ী।

 

ধোন্দল- সুন্দরবনে কাঠের মধ্যে সবচেয়ে মসৃন সৌখিন আসবাবপত্রের জন্য ধোন্দল কাঠ খুবই উপযোগী। বনসংশি­ষ্ট কর্তাব্যক্তি তথা প্রভাবশালী বণিক শ্রেণী, চাকুরে জীবির লোভের শিকার এই সৌখিন বৃক্ষ যেন আপনা মাংস হরিনী বৈরী।

 

কেউড়া- সুন্দরবনের নদী বা খালের পাশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নয়নাভিরাম দৃশ্যের সৃষ্টি করে যে গাছ- সেই কেউড়া। সাথে ক্যামেরা না থাকলে আফশোসে আপনার ভ্রমণ মাটি। ক্যামেরা থাকলে ছবি তুলতে তুলতে নাওয়া খাওয়া ভুলে যাবেন। ছোট ছোট টক জাতীয় ফল যা নিকটবর্তী অঞ্চলের মানুষের, আচার, চাটনি প্রভৃতি খাদ্যের যোগান দেয়। হরিনের প্রিয় খাদ্য কেউড়ার পাতা ও ফল।

 

গরান- উপকূলীয় এলাকার মানুষের সহজ গৃহনির্মাণের উপকরন বিশেষ করে ঘরের খুটি ও বেড়ার জন্য খুবই উপযোগী।

 

গেওয়া- বাংলাদেশের একমাত্র নিউজপ্রিন্ট মিল গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। নিউজপ্রিন্ট কাগজ তৈরির মন্ড একমাত্র গেওয়া কাঠ থেকে হয়। এই গাছ সুন্দরবনের শোভাবর্ধনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে।

 

গর্জন- অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহৃত তবে অনেক ঔষধী গুনে ভরা, প্রতিমা বা পুতুলের গায়ে রঙ উজ্জ্বলতার জন্য গর্জন তেল ব্যবহৃত হয়।

 

হেতাল- সরু বাঁশের মত ১০-১৫ ফুট দীর্ঘ খেজুর গাছই হেঁতাল এর ঝাকালো ঝোপের মধ্যে বাঘের আড্ডা। গাছের লাটি বা ঘরের রোয়া হিসাবেব এটি ব্যবহৃত হয়।

 

গোলপাতা- ইহা নারিকেল জাতীয় গাছ তবে অধিক উচ্চ নয়।এর পাতা লম্বায় দুভাগে চিরে ঘরের ছাউনি হিসাবে বিশেষ ব্যবহৃত হয়। সরকারি আয়ের একটি বড় অংশ গোলপাতা থেকে আসে।

 

জীবজন্তু

 

 

সুন্দরবনে প্রধানত বাঘ, হরিণ, বন্যশুকর ও বানর পাওয়া যায় আগে বন্য মহল এবং সমুদ্রোপকুলে গন্ডার পাওয়া যেত।

 

রয়েল বেঙ্গল টাইগার- সুন্দরবনকে বিশ্বের কাছে আকর্ষনীয় করেছে এই দূর্লভপ্রাণী রাজকীয় চেহারা ও ভঙ্গিমা যেন ভয় আর শ্রদ্ধার একমাত্র দাবিদার। পূর্ণ বয়স্ক বাঘ লেজ সমেত ১০/১২ ফুট দীর্ঘ ও ৩ ফুট উচ্চ হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন জগতে এমন কোন জীব নাই যারা এর চোখের দৃষ্টির সম্মুখে পড়ে আত্মহারা না হয়।

 

হরিণ-সুন্দরবনে দুই প্রকার হরিণ পাওয়া যায়। এরমধ্যে অধিকাংশ চিত্রল বা ডোরা হরিণ, আর দৈবাৎ চোখে মেলে কুকুরে হরিণ (Barking Deer) ডোরা হরিণ বড়গুলি ৪/৫ ফুট লম্বা হয় এবং প্রায় ৩ ফুট উচু হয়। কুকুরে হরিণের গায়ে ডোরা নেই। লাল কুকুরের মত একরঙ্গা আকারে বড় ছাগলের ন্যায় অনেকের মতে ইহার মাংস সর্বোৎকৃষ্ট।

 

শুকর-সুন্দরবনের সর্বত্রই শুকর চোখে মেলে। হরিণ ও শুকর বাঘের প্রধান খাদ্য। হরিণ সজাগ প্রাণী বলে শিকার সহজ নয়- তার চেয়ে সহজে শুকর শিকার করা যায়। তবে বড় শুকর শিকার সহজ নয়।

 

বানর-হরিণের বন্ধু হিসাবে বানরের খুব নাম। বাঘের আলামত পেলেই চিৎকার করে হরিণদের জানিয়ে দেয়। গাছের পাতা ভেঙে হরিণ বন্ধুদের খাওয়ায়। যেন নিরামিষাষী বৈষ্ণব পরিবারের সখ্যতা।

 

কুমীর-জলভাগের বৃহত্তম প্রাণীর মধ্যে কুমীর। সুন্দরবনের কুমীর দীর্ঘ, বৃহৎ ও হিংস্র। একটি বড় কুমীর ১০-১৫ হাত দীর্ঘ হয়। সুন্দরবনে ডাঙা এবং জল দুটোই বিপদজনক জলে কুমীর ডাঙায় বাঘ -যে ভয়াল প্রবাদ আছে সেটি যথাযথই সত্য। এরকম আরও একটি ভয়ংকর মাছ/জলজ প্রাণীর নাম হাঙ্গর স্থানীয় ভাষায় কামট। উহার ধারালো দাঁতে মানুষ বা প্রাণীর শরীর থেকে মাংস নিঃশব্দে কেটে নিয়ে যায়।

 

সাপ-বিষধর ও নির্বিষ উভয় প্রকার সাপের আবাসস্থল এই বন। বিশেষত- চৌসাপ, বোড়া বীজবড়ী, গোখুরা, আইরাজ ও কানড়। কেউটা, গোখুরা ও আইরাজ ফনাযুক্ত, কামড় ফনাহীন। চৌসাপ ব্যতীত অন্য বিষধর সাপের মধ্যে বোড়া প্রধান। বিষহীন সাপের মধ্যে কতকগুলিকে কালাই সাপ এবং দাঁড়াস।

 

পাখি-সুন্দরবনের পাখির মধ্যে নানা জাতীয়, কুল্যা, চিল, বক, কাক মাছাল এবং মাছ রাঙ্গা সর্বত্র চোখে পড়ে। এছাড়া মদনা বা মদনটাক ভস্মকার, শাম খোল (শঙ্খল) মানিক, গয়াল, বালিহাঁস, বনমোরগ, এছাড়াও ঘুঘু, দলো, দোয়েল, হলদে পাখি, ফিঙ্গে, বাটাং আরও কত নাম না জানা পাখিদের অভয়ারন্য এই বন স্বচোখে না দেখলে লিখে বর্ণনা করা অসম্ভব।

 

মাছ

 

সুন্দরবন এলাকায় প্রতিবছর কয়েক হাজার টন গাছের পাতা পড়ে জৈব্য খাদ্য তৈরি করে পানিতে। যা মৎস্য প্রজাতির প্রধান খাদ্য। সুন্দরবন অঞ্চলে এ খাদ্যের কারনে  গড়ে উঠেছে মাছের বিশাল আয়েজন। যার মধ্যে আছে পাঙ্গাস, পায়রা, কাইন মাগুর, নুছো, দাদনে, খয়রা, বাগদা সহ কয়েক প্রজাতির চিংড়ী, টেংরা, ভাঙ্গাল, ভেটকী, সিলেট, আমলেট, বাসপাতা, বেলে, মুল্যে, কৈবোল, চরখোদা, খৈশুল্য, চেলা, টেপা, ইলিশ প্রভৃতি। মৎস্য প্রজননের একটি অন্যতম কেন্দ্র সুন্দরবন অঞ্চল। গভীর সাগরে অবস্থানকারী অধিকাংশ মাছই প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবন এলাকায় চলে আসে। এছাড়া কয়েক প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে।

 

মৌমাছি/মধু

 

সুন্দরবন অভ্যন্তরে প্রতিবছর কয়েকশত টন করে মধু আহরিত হয়। এ মধু সমূহ সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছের ফুল থেকে সংগ্রহ করে চাকে বিশেষ ভাবে সংরক্ষন করে মৌমাছি। মধু সংগ্রহের সাথে সাথে সংগৃহীত হয় মোম।

 

নদী ও খাঢ়ী

 

সুন্দরবন অভ্যন্তরে রয়েছে অগনিত নদী, খাল ও খাঢ়ী। মূলত অনেক গুলো দ্বীপের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে সুন্দরবন।

অবস্থান: 
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন

ছবি



Share with :

Facebook Twitter